• পুষ্টি বিবেচনায় লাল এবং সাদা চাল (পরিমাণ ১ কাপ)

    এমজি এর উপরে থাকে যা হাড়, দাঁত মজবুত রাখে হৃদপিন্ডে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে মাংসপেশীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দেহকে রোগ বালাই আরগ্য করার প্রক্রিয়াকে উজ্জবিত করে। আয়রন : সাদা ভাতে শূণ্য। লাল ভাতে ৩.৪ এমজি থাকে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন করে, চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্লান্তি দূর করে। ম্যাগনেসিয়াম : সাদা ভাতে শূণ্য। লাল ভাতে থাকে ২৭২ এমজি, যা স্নায়ুর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে, হজম প্রক্রিয়া শক্তিশালী করে এবং ভিটামিন বি এবং ই এর কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ফসফরাস : সাদা ভাতে শূণ্য। লাল ভাতে থাকে ৫০০ এমজি, যা চুলের বৃদ্ধি, হৃদপিন্ড এবং কিডনির কার্যক্রম ঠিক রাখে, দেহে এসিড এবং এ্যালকালাইন এর ভারসাম্য রক্ষা করে। পটাসিয়াম : সাদা ভাতে শূণ্য। লাল ভাত থেকে পাওয়া যায় প্রায় ৫০৯ এমজি, যা দেহের পানির ভারসাম্যতা রক্ষা করে। মাংসপেশীর সংকোচন সহজ করে, মেয়েদের হরমোনের সমস্যা থেকে রক্ষা করে। সোডিয়াম : সাদা ভাতের চাইতে লাল ভাতে বেশি থাকে যা, দেহের পানি ভারসাম্য রক্ষা করে স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। জিঙ্ক : সাদা ভাতে শূণ্য। লালভাতে পাওয়া যায় ৩.৮ এমজি যা, চুল ও চামড়ার স্বাস্থ্য সুন্দর রাখে। ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে নিরাময় হয়, সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে। গর্ভধারণ এবং পুরুষত্ব স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কপার : সাদা ভাতে শূণ্য। লালভাতে সামান্য পরিমাণে থাকে ০.৫ এমজি যা খাদ্য হতে প্রাপ্ত লৌহ কে হিমোগ্লোবিনে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে এছাড়া শরীরে ভিটামিন সি এর ব্যবহার নিশ্চিত করে। ম্যাঙ্গানিজ : সাদা ভাতে শূণ্য। লালভাতে থাকে ৭.৯ এমজি যা স্নায়ু এবং মস্তিস্কে পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে, এছাড়া চর্বি এবং আমিষ হজম করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এবার আপনি বেছে নিন আপনি কোন চালের ভাত খাবেন ? লেখা- শহীদ আহমেদ, প্রধান নির্বাহী, ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার

  • লাল চালের উপকারিতা

    সংস্পর্শে বেশিক্ষণ থাকতে বাধা দেয়। এ ছাড়া লাল চাল সেলেনিয়ামের ভালো উত্স। এই খনিজ দ্রব্যের সামান্য পরিমাণও অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। ২. লাল চালে ভিটামিন বি-১, বি-৩, বি-৬ এবং ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস প্রভৃতি খনিজ পদার্থ বেশি মাত্রায় থাকে। শরীরের জন্য এগুলো খুব দরকার। লাল চাল পরিশোধন করে সাদা চাল তৈরির প্রক্রিয়ায় চালের এসব উপাদান অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। আঁশও কমে যায়। এসব বিবেচনায় লাল চাল নিঃসন্দেহে ভালো। ৩. কিন্তু লাল চালে একটা সমস্যা থাকতে পারে যদি সেটা আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় উত্পাদিত হয়। ধানগাছ খুব সহজেই মাটি ও পানি থেকে আর্সেনিক শুষে নেয়। এখানেই বিপদ। এই আর্সেনিক ধানের খোসা ও তার সঙ্গের কুঁড়াতে বেশি থাকে। ধানের শুধু খোসা ছাড়ানোর পর তৈরি লাল চালে আর্সেনিক দূষণের আশঙ্কা বেশি। চাল সাদা করার সময় লাল চালের কয়েক পরত আবরণ উঠে যায়। ফলে আর্সেনিকের মাত্রা সাদা চালে কম। তাই এ ক্ষেত্রে সাদা চাল ভালো। তবে সব চালেই যে আর্সেনিক থাকবে তা নয়। যেসব এলাকার পানিতে আর্সেনিক, সেখানে ভয় থাকে। ৪. কতটা আর্সেনিক থাকলে বিপদ হতে পারে, সেটাও দেখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার হিসাবে এক গ্লাস খাওয়ার পানির ১০ কোটি ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত আর্সেনিক নিরাপদ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এক থালা ভাতে আড়াই মাইক্রোগ্রাম (এক গ্রামের ১০ লাখ ভাগের এক ভাগ) থেকে সাড়ে সাত মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত আর্সেনিক থাকতে পারে। এই মাত্রা এলাকাভেদে কম-বেশি হয়। বাসমতী চালে আর্সেনিকের মাত্রা কম থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত বৃষ্টির পানি, পাম্পের মাধ্যমে খাল-বিল, নদী-নালার পানি এবং ডিপ টিউবওয়েলে সেচের মাধ্যমে ধান চাষ হয়। ফলে ধানে আর্সেনিকের আশঙ্কা কম। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশের চালে আর্সেনিক খুব কম থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়। ধানগাছের শিকড় আর্সেনিককে শস্যদানা পর্যন্ত যেতে বাধা দেয়।’ সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, মার্চ ১৭, ২০১৫)।

Account ×